
ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে: বিস্তারিত গাইড ২০২৫
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য নথি। বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে যা অত্যাধুনিক এবং নিরাপদ। ই-পাসপোর্ট পেতে আপনাকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৫ সালের জন্য ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এবং এর প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
ই-পাসপোর্ট বলতে কী বোঝায়?
ই-পাসপোর্ট হল একটি ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট যা বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে। এর মধ্যে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা স্ক্যান এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID):
আপনার বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং একটি ফটোকপি জমা দিতে হবে। যদি আপনার NID না থাকে, তবে জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. জন্ম নিবন্ধন সনদ:
১৮ বছরের নিচের প্রার্থীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
৩. পাসপোর্ট সাইজের ছবি:
ফরমাল পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সাধারণত ২ কপি জমা দিতে হয়।
৪. নাগরিকত্ব সনদপত্র:
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, বা সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত নাগরিকত্ব সনদপত্র।
৫. বিবাহিত প্রার্থীদের জন্য:
- বৈবাহিক সনদপত্র।
- স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি।
৬. পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (যদি থাকে):
পূর্ববর্তী পাসপোর্ট থাকলে সেটি জমা দিতে হবে।
৭. আবেদন ফি:
পাসপোর্টের মেয়াদ এবং প্রসেসিং টাইমের উপর নির্ভর করে আবেদন ফি পরিবর্তিত হয়।
ই-পাসপোর্ট করতে ধাপে ধাপে নির্দেশনা
ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন
আপনাকে প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, এবং পরিচয়পত্রের বিবরণ প্রদান করতে হবে।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
অনলাইনে আবেদন করার পরে, সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
ধাপ ৩: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং চোখের স্ক্যান পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি দিতে হবে। এটি ই-পাসপোর্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ধাপ ৪: আবেদন ফি পরিশোধ
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত, জরুরি, বা সুপার জরুরি প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।
- নিয়মিত: ৩,৫০০ টাকা।
- জরুরি: ৫,০০০ টাকা।
- সুপার জরুরি: ৭,০০০ টাকা।
ধাপ ৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ
সব ধাপ সম্পন্ন করার পরে, নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনার আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে ট্র্যাক করা যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য ফি তিনটি ভিন্ন প্রসেসিং টাইম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
- নিয়মিত প্রসেসিং: ৩,৫০০ টাকা।
- জরুরি প্রসেসিং: ৫,০০০ টাকা।
- সুপার জরুরি প্রসেসিং: ৭,০০০ টাকা।
ই-পাসপোর্টের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
১. আবেদন ফর্ম পূরণের সময় সতর্ক থাকুন।
২. সঠিক তথ্য প্রদান করুন। ভুল তথ্য প্রদান করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
৩. প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট একসঙ্গে জমা দিন।
৪. আবেদন জমা দেওয়ার পরে আপনার রিসিপ্ট অবশ্যই সংরক্ষণ করুন।
৫. পাসপোর্ট অফিসে সময়মতো উপস্থিত থাকুন।
উপসংহার
ই-পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া বর্তমানে অনেক সহজ ও আধুনিক। সঠিক নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আপনি সহজেই আপনার ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট পেতে পারেন। যেকোনো ভ্রমণের আগে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে পাসপোর্ট প্রস্তুত করুন এবং আন্তর্জাতিক যাত্রা সহজ করুন।